বিশেষ প্রতিবেদকঃ
কুলাউড়া উপজেলার কৃতি সন্তান, বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টারে কর্মরত অতিরিক্ত ডিআইজি জালাল চৌধুরী (মাসুম) আর নেই।
বুধবার ১৭ সেপ্টেম্বর ভোর পৌনে ৬টার দিকে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মরহুমের ভাই রোমান চৌধুরী জানান, দীর্ঘদিন ক্যান্সারে ভুগলেও হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫২ বছর। তিনি স্ত্রী (২২তম বিসিএসের সচিব), দুই পুত্র, অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।
রোমান চৌধুরী আরও জানান, সকাল ৯টায় রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে মরদেহ নেওয়া হবে গ্রামের বাড়ি কুলাউড়ার কাদিপুর ইউনিয়নের মনসুর গ্রামে। বাদ এশা মনসুর আশরাফিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হবে।
পেশাজীবনে জালাল চৌধুরী ছিলেন দক্ষ, সৎ ও মানবিক একজন পুলিশ কর্মকর্তা। দায়িত্বশীলতার পাশাপাশি তিনি ছিলেন লেখক ও চিন্তাশীল মেধাবী। সম্প্রতি তিনি পুলিশ সংস্কার কমিশনের সচিবালয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। নিজ এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও তাঁর অবদান ছিল স্মরণীয়।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও রেখেছেন বিশেষ অবদান। জাতিসংঘ শান্তি মিশনে প্ল্যানিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতিসংঘ পুলিশ তাঁর ওপর একটি ডকুমেন্টারি তৈরি করে, যা প্রকাশিত হয় জাতিসংঘ পুলিশের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে।
পেশাগত জীবনের পাশাপাশি তিনি ছিলেন সাহিত্যপ্রেমী। বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত গীতিকার ছিলেন তিনি। তাঁর প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে— কোথায় পাবো তাকে, নির্বাসিত হৃদয়ে এসো, ইরোটা ম্যানিয়া এবং একটি ছোটগল্প সংকলন।